ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা আর বালি দুইটাই অনেক সুন্দর জায়গা। বালি তো অসাধারন। মাশা-আল্লাহ। ইন্দোনেশিয়া ট্যুর নিয়ে অনলাইনে খুব কমই হেল্প পোস্ট পাওয়া যায়। যারা একেবারে প্রথম ট্রাভেল করবে আশাকরি তাদের অনেক কাজে লাগবে এটি। ১টি অনুরোধ ১৩ নম্বর প্যারাটি মনোযোগ দিয়ে পরবেন।

 জাকার্তা কিভাবে যাবেনঃ
উত্তরঃ আপনি যেকোনো ট্রাভেল এজেন্সি থেকে আপনার পছন্দের এয়ারওয়েস-এর টিকিট কেটে নিতে পারেন। আমরা মালিন্দো এয়ারওয়েস-এর টিকিট কেটেছিলাম জাকার্তা পর্যন্ত। মালয়শিয়াতে ট্রান্সিট ছিল কয়েক ঘণ্টার। ঢাকা-মালয়শিয়া-জাকার্তা। আপনি চাইলে ডিরেক্ট ঢাকা টু বালি যেতে পারেন। কোন সমস্যা নাই। 
 ফ্রি ভিসা ইনফরমেশনঃ
উত্তরঃ ইন্দোনেশিয়ার ভিসা ফ্রি। সো নো টেনশন। কোন ফি-ও লাগবেনা। তবে এয়ারপোর্ট-এ জিজ্ঞাসা করতে পারে যে ভিসা নাই কেন? সোজা বলে দিবেন, ইন্দোনেশিয়ার ভিসা ফ্রি, আর আমি ৩০ দিনের বেশি থাকবোনা। আপনার পাসপোর্টে অন্য ২-১ টা ভিসা থাকলে আর সমস্যা করবে না। আর ইন্দোনেশিয়ায় কিছু জিজ্ঞাস করলে বলবেন ফ্রি ভিসায় এসেছি।
 ডকুমেন্টস কি কি নিতে হবেঃ
উত্তরঃ আসলে তেমন কিছু প্রয়োজন নেই। টিকিট এর কপি নিয়ে নিন। পাসপোর্টে ডলার এন্ডোরসড করে নিন। হোটেলের বুকিং এর কপিটা প্রিন্ট করে নিতে পারেন (ট্যাক্সি ওয়ালাকে এড্রেস দেখাতেও কাজে লাগবে এটা, আর হোটেলেও শো করতে পারেন। মোবাইলে ছবি থাকলেও হবে, সমস্যা নাই)। কোন ইনভাইটেশন থাকলে প্রিন্ট করে নিতে পারেন। পাসপোর্টের কপিও রাখতে পারেন ২-১ টা।
  
 ট্যাক্সি ইনফরমেশন(জাকার্তা+বালি)
উত্তরঃ জাকার্তা নেমে অন্য কোন ট্যাক্সি নিবেননা। একটু খুঁজে BLUE BIRD ট্যাক্সির স্ট্যান্ডে চলে যান। এক কথায় trusted বলা যায়। কোথায় যাবেন তাকে জানিয়ে দিন। সে নিয়ে যাবে। মিটার অনুযায়ী ভাড়া দিয়ে দিন (টোল গুলো আপনাকেই দিতে হবে)। আর বালিতে এয়ারপোর্ট-এ নেমে BLUE ট্যাক্সি না পেলে লোকাল ট্যাক্সি ভাড়া ঠিক করে নিন। ট্যাক্সিওয়ালা যা চাবে তার অর্ধেকের কম বলুন। লাইনে চলে আসবে আশা করি। 

খাওয়া-দাওয়া (জাকার্তা+বালি)
উত্তরঃ জাকার্তাতে মুসলিম মানে হালাল খাবার পাবেন। আমি যেই লোকেশনে ছিলাম সেখানে বাংলা কোন খাবার ছিলোনা। তাই সকালে থেকে রাত পাওরুটি, কলা, চিকেন ফ্রাই, আর 1st food এর উপরে ছিলাম। KFC, Burger king, A&W তে বেশি খেয়েছি। আর বালিতে লোকাল ফুড পাওয়া যাবে। খেতে পারলে ভালো (আমি লোকাল ফুড খেয়েছি অনেক সস্তা পরবে), আর না পারলে KFC, Pizza Hut, Burger king এর উপরে থাকতে হবে। 

 লোকাল ট্রান্সপোর্ট ইনফরমেশন (জাকার্তা+বালি)
উত্তরঃ লোকাল ট্রান্সপোর্ট হিসেবে স্কুটী জাকার্তা বা বালি ২ জায়গাতেই পাবেন। তবে জাকার্তায় আমাদের দেশের হাই-এইস গাড়ির মতো লোকাল মাইক্রো পাবেন। সস্তায় রুট অনুসারে মুভ করতে পারবেন। রুটটা আপনাকে চিনে নিতে হবে। আমি রুট চিনে নিয়েছিলাম ১ম দিনই। তাই অনেক টাকা বাচাতে পেরেছি এর জন্য। এছাড়া ট্যাক্সি আথবা স্কুটীতে মুভ করতে হবে আপনাকে। আর বালিতে দিন হিসেবেও স্কুটী ভাড়া পাওয়া যায়। আপনি ২-৩ দিন হিসেবে স্কুটী ভাড়া নিতে পারবেন। এরপর আপনি স্কুটিতে করে যেখানে খুশি সেখানে মুভ করতে পারবেন বালিতে। তেল আপনাকে কিনতে হবে। এটাই (স্কুটী) সবচেয়ে বেস্ট। 
 ডলারকে রূপিয়াতে কনভারশনঃ
উত্তরঃ জাকার্তা নেমে ১০০-২০০ ডলার ভাঙ্গিয়ে নিন। এয়ারপোর্টে ডলার এর প্রাইস একটু কম পাবেন। এরপর বাহিরে আপনার সুবিধা অনুযায়ী ডলার ভাঙ্গিয়ে নিন। বিভিন্ন মার্কেটে মানি এক্সচেঞ্জ পাবেন জাকার্তায়। জাকার্তা থেকে বালিতে ডলার এর প্রাইস একটু বেশি। কিন্তু সাবধান, “লোভে পড়বেননা বিস্তারিত এই বিষয়ে পরে লিখছি। ১৩ নম্বর পয়েন্টটি মনোযোগ সহকারে পরুন।
.কেনাকাটায় দামাদামি করার বিষয়ঃ
উত্তরঃ জাকার্তা থেকে বালিতে জিনিস পত্রের দাম অনেক বেশি। সহজ ভাবে বলতে গেলে বালিতে আগুন দাম। আর বালিতে ওরা ১টা জিনিসের দাম ৭-৮ গুন বেশি চাইবে আপনার কাছে। সো, লজ্জা করে লাভ নাই, নির্লজ্জের মতো ৭-৮ গুন কম দাম বলুন(ব্র্যান্ডের শো রুম ছাড়া)। এমনকি সী-বিচেও যে বেড ঘন্টা হিসেবে ভাড়া নিবেন ওইটাও দামাদামি করুন। আমি দামাদামি করে ২০,০০০ রুপি বাচিয়েছি। দামাদামি করুন, ওই টাকা দিয়ে প্রয়োজনে প্রিয়জনদের জন্য গিফট কিনে আনুন, ভালো হবে। 
চিটিং থেকে বাচার উপায় (ডলারকে রূপিয়াতে কনভারশন এর সময়)
উত্তরঃ এই পার্টটি মনোযোগ দিয়ে পরতে পারেন। কারন, ঘটনা ঘটার আগে এই অনুভিতি আপনি উপভোগ করতে পারবেননা। জাকার্তাতে প্রতি ডলার প্রাইস ১২,২০০ রুপি থেকে ১২,৬০০ রুপি। বালিতে ১২,৬০০ থেকে ১২,৯০০ রুপি। মনে রাখবেন, এরা সাধারনত ১ লাখ (১০০,০০০) এর নোট বেশি দিবে। কিন্তু অনেক মহামানব/মানি এক্সচেঞ্জ আছে যারা আপনার আরও ভালো চায়। তারা আপনাকে ১৩,০০০ থেকে ১৩,৮০০ রুপিও দিবে (অফার করবে)। বড় বড় করে বোর্ডে প্রাইস দিয়ে রাখবে। ব্যাবহার অসম্ভব ভালো। প্লিজ, ভুলেও লোভে পড়বেননা। ঘটনা বলছি। আপনি কোথায় উঠেছেন, কেমন আছেন, কবে যাবেন এসব বিষয়ে কথা বলবে। মনে রাখবেন, তারা আপনাকে সবগুলো নোট ৫০ হাজারের (৫০,০০০) দিবে। আপনার বিশ্বাস যোগাতে ৫০ হাজারের বিশটি করে নোট (১০ লাখ/১ মিলিয়ন) করে আপনাকে গুনতে দিবে। মনে করেন, আপনি ৩০০ ডলার ভাঙ্গালেন, ৪০ লাখ/৪ মিলিয়ন এর উপরে রুপি পাবেন আপনি। সো সে আপনার বিশ্বাস যোগাতে ৫০ হাজারের বিশটি করে নোট (১০ লাখ/১ মিলিয়ন) করে আপনাকে গুনতে দিবে। আপনি ১টি ১টি করে মানে ২০ টির করে গুনবেন, সে সেই নোট আপনার সামনেই রাখবে। ২০ টির করে চারটি বান্ডেল আপনার সামনেই রাখবে। আপনিও দেখছেন সব ঠিক। কারন আপনি নিজেই তো গুনেছেন। সে আপনাকে চারটি বান্ডেল আর বাকি রুপি গুলো একসাথে আপনার চোখের সামনে আপনার হাতে তুলে দিবে। আপনিও তো খুশি, কই ১২,২০০ রুপি আর কই ১৩,৮০০ রুপি প্রতি ডলারে। মজাই মজা। কথা হচ্ছে এখন, আপনি যদি অনেক হিসেবি হন তাহলে আপনি দিন শেষে রাতে হয়তো বা পরে ফ্রি কোন সময়ে আপনার রুপির হিসেব নিয়ে বসবেন। যদি সঠিকভাবে হিসেব করতে পারেন, তাহলে আপনি কখনই ১০ লাখ রুপির, মানে ৫০ হাজারের ২০ টি নোটের হিসেব কখনই খুঁজে পাবেন না। নিজে মানতেও পারবেননা যে কিভাবে কি হওয়া সম্ভব? কারন আপনিতো নিজে টাকা গুলোর প্রত্যেকটা নোট গুনেছেন, আর সেও আপনাকে সেই নোট গুলোই দিয়েছে, আপনি পকেটে ঢুকিয়েছেন। কাহিনী এখানেই, জানেন তো লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু ভাইরে এটাই ম্যাজিক। আপনি তাকিয়ে থাকলেও এই ম্যাজিক হয়তো ধরতে পারবেননা। চোখের পলোকে তারা এই কাজ করতে পারে। ঐ যে, যেই টাইমে সে আপনার নিজের হাতে গুণা চারটি নোটের বান্ডেল এক করে আপনাকে দিয়েছে, ওই টাইমেই জাস্ট চোখের ১টা পলকের সাথে সাথে সে সেই কাজটি করে ফেলে। পুরো ৫০ হাজারের গুণা ২০ টি নোটের ১ টি বান্ডেল নাই করে দেয়। এটা অনুমান করা কথা না। এটা বুঝতে আমি আবারো আরেক জায়গায় গিয়েছি পরেরদিন, তখন সব মিলিয়েছি দেখে দেখে। একই কথা, একই ভাব, একই প্রসেস, একই নিয়মে টাকা দেয়া, একই নিয়মে গুনতে দেয়া, একই নিয়মে টাকার বান্ডেল রাখা্‌, একই নিয়মে আমাকে নোট গুলো দেয়া। যাই হোক, আমি আর ভাঙ্গাইনি ওখানে। রেপুটেড মানি এক্সচেঞ্জ-এ ভাঙ্গিয়েছি একটু কম রুপিতে। যারা জানে তারা আসলে তাই করে। লোভে পরে না। আল্লাহ্‌ আমাকে বাঁচিয়েছে। আমি কোন বারই ধরা খাইনি। সে অনেক কথা। জানিয়ে রাখা দরকার আমি মনে করি, তাই শেয়ার করলাম। সাজেশন এটাই, লোভে পড়বেন না। অনেক রেপুটেড মানি এক্সচেঞ্জ আছে। রুপি কম দিবে। ১২,৭০০-১২,৯০০ কিন্তু এভাবে টাকা মেরে দিবেনা। ভাঙ্গালেই বুঝবেন
আপনার ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ হোক।
ধন্যবাদ।